খায়রুল বাশার

    খায়রুল বাশার

    সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার — বাংলাদেশ

    গ্রামের ছেলে। রাজমিস্ত্রির কাজ করে ৪,৬০০ টাকায় প্রথম কম্পিউটার কিনেছিলাম। আজ ওয়েব, মোবাইল, ডেস্কটপ, AI — সব প্ল্যাটফর্মে প্রোডাকশন-রেডি সফটওয়্যার তৈরি করি।

    ২১

    বছর বয়স

    ৬+

    বছর কোডিং

    ৫০+

    প্রজেক্ট সম্পন্ন

    ৪,৬০০

    টাকায় শুরু

    ব্যক্তিগত তথ্য

    পুরো নামখায়রুল বাশার
    ডাকনামখায়রুল
    বয়স২১ বছর
    জন্মতারিখ১৫ মার্চ, ২০০৪
    জন্মস্থানবাংলাদেশের একটি গ্রাম
    ধর্মইসলাম
    জাতীয়তাবাংলাদেশী
    পেশাসফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার
    শিক্ষাস্ব-শিক্ষিত ডেভেলপার
    অভিজ্ঞতা৬+ বছর কোডিং
    বৈবাহিক অবস্থাঅবিবাহিত
    রক্তের গ্রুপO+
    ভাষাবাংলা, ইংরেজি
    বর্তমান ঠিকানাঢাকা, বাংলাদেশ
    সার্ভিস

    আমি যা করি — আপনার জন্য

    আপনার আইডিয়াকে প্রোডাক্টে রূপান্তর করি। যেকোনো প্ল্যাটফর্মে, যেকোনো স্কেলে।

    ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন

    ফুল-স্ট্যাক ওয়েব অ্যাপ তৈরি করি — React, Next.js, Node.js, TypeScript দিয়ে। ই-কমার্স, SaaS, ড্যাশবোর্ড — যেকোনো কিছু।

    ReactNext.jsNode.jsTypeScript

    মোবাইল অ্যাপ

    Android ও iOS দুটোর জন্যই একটা কোডবেজ থেকে প্রফেশনাল মোবাইল অ্যাপ বানাই।

    React NativeFlutterExpo

    ডেস্কটপ সফটওয়্যার

    Windows, Mac, Linux — সব প্ল্যাটফর্মে চলে এমন ডেস্কটপ অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করি।

    ElectronTauriPython

    AI/ML সলিউশন

    আপনার বিজনেসের জন্য AI-পাওয়ার্ড ফিচার — চ্যাটবট, অটোমেশন, ডেটা অ্যানালাইসিস।

    PythonTensorFlowOpenAILangChain

    কেন আমাকে বেছে নেবেন?

    ৬+ বছরের হ্যান্ডস-অন অভিজ্ঞতা

    ৫০+ প্রজেক্ট সফলভাবে ডেলিভার

    ডেডলাইনের আগেই ডেলিভারি দেওয়ার অভ্যাস

    ক্লিন, মেইনটেনেবল কোড লিখি

    ২৪/৭ কমিউনিকেশন — টাইমজোন কোনো সমস্যা না

    ডেলিভারির পরেও সাপোর্ট দিই

    আমি কেমন মানুষ

    কোডের বাইরে — আসল খায়রুল

    শুধু কোডার না — একজন মানুষ, একটা গল্প, কিছু বিশ্বাস।

    হাল না ছাড়া

    জীবনে অনেকবার পড়ে গেছি, কিন্তু প্রতিবারই উঠে দাঁড়িয়েছি। হাল ছাড়া আমার শব্দভাণ্ডারে নেই।

    মানবিকতা

    মানুষের জন্য কাজ করি। প্রযুক্তি শুধু টুল — আসল উদ্দেশ্য মানুষের জীবন সহজ করা।

    আজীবন শেখা

    প্রতিদিন নতুন কিছু শিখি। গতকালের চেয়ে আজকে একটু ভালো হওয়া — এটাই আমার লক্ষ্য।

    সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া

    শুধু নিজে বড় হতে চাই না। আমার মতো গ্রামের ছেলেমেয়েরাও যেন এই সুযোগ পায়।

    সততা ও বিশ্বস্ততা

    ক্লায়েন্ট হোক বা বন্ধু — আমি সবসময় সৎ থাকি। বিশ্বাসযোগ্যতা আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ।

    জ্ঞান শেয়ার করা

    আমি যা শিখেছি, তা লুকিয়ে রাখি না। অন্যরা যেন আমার ভুল থেকে শিখতে পারে — এটাই চাই।

    আমাকে চেনার কিছু উপায়

    রাত ৩টায় কোডিং করতে ভালোবাসি — সবচেয়ে বেশি ক্রিয়েটিভ তখনই হই

    চা ছাড়া কোডিং হয় না — দিনে অন্তত ৫ কাপ

    নতুন টেকনোলজি দেখলে শিখতেই হবে — এটা অভ্যাস না, নেশা

    যেকোনো সমস্যায় প্রথমে গুগল করি — তারপর চিন্তা করি

    Clean code লেখার ব্যাপারে সিরিয়াস — messy code দেখলে ঘুম হারাম

    কারো কাছে সাহায্য চাইতে আমার লজ্জা নেই — আবার সাহায্য করতেও আমার ক্লান্তি নেই

    শখ ও আগ্রহ

    কোডিং
    বই পড়া
    গান শোনা
    গেমিং
    মানুষদের সাহায্য করা
    নতুন টেকনোলজি শেখা
    চা খাওয়া
    ঘুরে বেড়ানো
    আমার গল্প

    ৪,৬০০ টাকা থেকে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার

    এটা কোনো সিনেমার গল্প না। এটা আমার জীবন — প্রতিটা কষ্ট, প্রতিটা সংগ্রাম, প্রতিটা ছোট্ট জয়। নিচে আমার পুরো যাত্রা পড়ো — জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত।

    ২০০৪ — ২০১৪

    জন্ম ও শৈশব

    বাংলাদেশের একটা ছোট্ট গ্রামে জন্ম আমার। একদম সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার — বাবা কষ্ট করে সংসার চালাতেন, মা ঘর সামলাতেন। টাকা-পয়সার অভাব ছিল, কিন্তু ভালোবাসার অভাব কখনো হয়নি। বাবা-মা কখনো বলেননি 'তুই পারবি না' — সেটাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।

    ছোটবেলা থেকেই একটু অন্যরকম ছিলাম। সবাই যখন ক্রিকেটার বা ডাক্তার হতে চাইত, আমি চাইতাম কিছু একটা নিজে বানাতে। রেডিও খুলে ভেতরটা দেখতাম, ঘড়ির মেকানিজম বুঝতে চাইতাম। মানুষ বলত 'এই ছেলে সব নষ্ট করে' — আমি জানতাম আমি শিখছি।

    ক্লাস ৫-এ প্রথম স্কুলের কম্পিউটার ল্যাবে ঢুকলাম। সেই প্রথম কম্পিউটার দেখা। স্ক্রিনে কিছু একটা টাইপ করলে সেটা দেখায় — এটাই আমার কাছে জাদু মনে হয়েছিল। সেই দিন থেকে ঠিক করলাম, আমি এটা শিখব। যেভাবেই হোক।

    গ্রামে বিদ্যুৎ যেত আসত। লোডশেডিং হলে মোমবাতির আলোয় বই পড়তাম। স্কুলের রেজাল্ট সবসময় ভালো ছিল — শিক্ষকরা বলতেন 'এই ছেলে একদিন বড় কিছু করবে।' সেই কথা মনে রেখেছিলাম।

    ২০১৪ — ২০১৮

    সংগ্রামের শুরু — রাজমিস্ত্রির ছেলে

    কিন্তু স্বপ্ন দেখা এক জিনিস, পূরণ করা আরেক। আমাদের সামর্থ্য ছিল না কম্পিউটার কেনার। বাড়িতে বসে কাগজে কোড লিখতাম — হ্যাঁ, সত্যিই কাগজে। খাতায় HTML ট্যাগ লিখে ইমাজিন করতাম ব্রাউজারে কেমন দেখাবে। বন্ধুরা হাসত, কিন্তু আমি জানতাম এটা সময়ের ব্যাপার।

    স্কুলে সাইবার ক্যাফেতে যেতাম। ঘণ্টায় ২০ টাকা। সেই ২০ টাকাও জোগাড় করা কঠিন ছিল। ৩০ মিনিট সময় পেলে HTML শিখতাম, বাকি সময় খাতায় লিখে রাখতাম কী কী শিখব পরের বার।

    ক্লাস ৮-এ সিদ্ধান্ত নিলাম — নিজে কম্পিউটার কিনব। বাবার কাছে চাইতে পারতাম না, জানতাম উনার সামর্থ্য নেই। উনি সারাদিন খেটে আমাদের খাওয়াতেন, আর কত চাপ দেব? তাই স্কুল ছুটির পর রাজমিস্ত্রির হেল্পার হিসেবে কাজ শুরু করলাম।

    রোদে পুড়ে ইট বইতাম, সিমেন্ট মেশাতাম। হাত ফুলে যেত, শরীর ব্যথা করত — কিন্তু মনে একটাই কথা: 'কম্পিউটার কিনব।' সন্ধ্যায় বাড়িতে এসে ক্লান্ত শরীরে খাতায় কোড লিখতাম। মা কাঁদতেন দেখে, বলতেন 'এত কষ্ট করিস না বাবা।'

    প্রায় এক বছর পর ৪,৬০০ টাকা জমল। একটা সেকেন্ড-হ্যান্ড ডেস্কটপ কিনলাম — পুরনো, ধীরগতি, মাঝেমধ্যে হ্যাং হতো। কিন্তু আমার কাছে সেটা ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে দামি জিনিস। সেই দিন ঘরে এসে কম্পিউটার চালু করে চোখে পানি এসে গিয়েছিল। বাবা পাশে দাঁড়িয়ে বললেন — 'তুই পারবি বাবা।'

    ২০১৮ — ২০২১

    নিজে নিজে শেখা — ইউটিউব বিশ্ববিদ্যালয়

    কোচিং করার টাকা নেই, মেন্টর নেই, আশেপাশে কেউ নেই যে প্রোগ্রামিং বোঝে। কিন্তু ইন্টারনেট আছে — আর সেটাই যথেষ্ট। ইউটিউব আর গুগল হলো আমার শিক্ষক। রাত ২-৩টা পর্যন্ত জেগে থেকে ভিডিও দেখতাম, কোড লিখতাম, ভুল করতাম, আবার শিখতাম। মা বলতেন 'ঘুমা বাবা' — আমি বলতাম 'আর একটু মা।'

    ইন্টারনেটও ছিল ধীরগতি। একটা ১০ মিনিটের ভিডিও লোড হতে ৩০ মিনিট লাগত। বাফারিং এর মধ্যে বসে খাতায় নোট লিখতাম। কখনো কখনো ইন্টারনেট চলে যেত — তখন আগের নোট দেখে প্র্যাকটিস করতাম।

    প্রথম ৩ মাস শুধু HTML আর CSS শিখেছি। তারপর JavaScript — মাথা ঘুরে গেছিল। Closure, Prototype, Async — কিছুই বুঝতাম না। হতাশ হতাম, মনে হতো আমি দিয়ে হবে না। কিন্তু পরদিন আবার বসতাম। একটা কথা নিজেকে বলতাম: 'আজকে না পারলে কালকে পারব।'

    প্রায় ছয় মাস পর প্রথম ওয়েবসাইট বানালাম। খুব সিম্পল — শুধু কিছু টেক্সট আর বাটন। কিন্তু সেটা ব্রাউজারে দেখে যে অনুভূতি হয়েছিল, সেটা কোনো ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমি, গ্রামের একটা ছেলে, নিজে একটা ওয়েবসাইট বানিয়েছি!

    এরপর থামিনি। React শিখলাম, Node.js শিখলাম, Database শিখলাম। প্রতিটা নতুন জিনিস শেখাটা ছিল একটা যুদ্ধ। কিন্তু প্রতিটা যুদ্ধে জিতেছি — শুধু হাল না ছাড়ার জেদে।

    ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলাম। প্রথম ১০টা বিড রিজেক্ট হলো — কেউ বিশ্বাস করত না একটা গ্রামের ছেলে ভালো কোড লিখতে পারে। ১১তম বিডে প্রথম কাজ পেলাম — মাত্র ৫০০ টাকায়। সেই ৫০০ টাকা আমার কাছে ৫ লাখ টাকার মতো ছিল। মায়ের হাতে দিয়ে বলেছিলাম — 'মা, এটা আমি কোডিং করে কামিয়েছি।' মা কেঁদে ফেলেছিলেন।

    ২০ ২০২১ — ২০২৩

    প্রফেশনাল জীবন — ফ্রিল্যান্সার থেকে ইঞ্জিনিয়ার

    ফ্রিল্যান্সিং থেকে ধীরে ধীরে ক্লায়েন্ট বাড়তে লাগল। প্রথম দিকে ছোট ছোট কাজ — একটা ল্যান্ডিং পেজ ২০০০ টাকায়, একটা ফর্ম ১৫০০ টাকায়। রাত জেগে কাজ করতাম, দিনে স্কুল/কলেজ।

    প্রথম বড় ক্লায়েন্ট পেলাম একটা ই-কমার্স প্রজেক্ট। ৪০,০০০ টাকা। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অঙ্কের কাজ। ভয় পেয়েছিলাম — পারব কি না? কিন্তু ডেডলাইনের আগেই ডেলিভার দিলাম। ক্লায়েন্ট বললেন — 'তুমি তো অনেক ভালো কাজ করেছ!' সেই মুহূর্তে বুঝলাম — আমি সত্যিই পারি।

    প্রতিটা প্রজেক্ট থেকে শিখেছি। ক্লায়েন্টদের সাথে কথা বলা শিখেছি, ডেডলাইন মেনে চলা শিখেছি, চাপের মধ্যে কাজ করা শিখেছি। রাত ৩টায় ক্লায়েন্ট বাগ রিপোর্ট দিত — ঘুম থেকে উঠে ঠিক করতাম। এটাই ছিল আমার জীবন।

    এই সময়েই মোবাইল ডেভেলপমেন্ট, ডেস্কটপ অ্যাপ, আর AI/ML শিখতে শুরু করি। আমি বুঝলাম — শুধু ওয়েবে আটকে থাকলে চলবে না. একজন সত্যিকারের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সব প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে পারে।

    এই সময়ে কিছু কঠিন মুহূর্তও ছিল। একবার একটা বড় প্রজেক্ট মাঝপথে ক্যান্সেল হয়ে গেল — ২ মাসের কাজ বৃথা গেল। টাকাও পাইনি। সেদিন খুব ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু পরদিন আবার নতুন প্রজেক্ট খুঁজতে শুরু করলাম।

    ২০২৪ — বর্তমান

    বর্তমান — আজকের খায়রুল

    আজ আমার বয়স ২১। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছি। ওয়েব, মোবাইল, ডেস্কটপ, এমনকি AI/ML — প্রতিটা প্ল্যাটফর্মে প্রোডাকশন-রেডি সফটওয়্যার তৈরি করতে পারি। React, Next.js, React Native, Flutter, Electron, Python, TensorFlow — এসব এখন আমার হাতিয়ার।

    সেই ৪,৬০০ টাকার সেকেন্ড-হ্যান্ড কম্পিউটার থেকে শুরু করে আজ এখানে। কেউ পথ দেখায়নি, কোনো ব্যয়বহুল কোর্স করিনি, কোনো নামি প্রতিষ্ঠান থেকে শিখিনি। শুধু ইচ্ছাশক্তি, ইন্টারনেট, আর না হাল ছাড়ার জেদ — এই তিনটাই যথেষ্ট ছিল।

    আজ যখন পেছনে তাকাই, নিজেকেই বিশ্বাস হয় না। সেই ছেলে যে রোদে পুড়ে ইট বহন করত, সে আজ এয়ারকন্ডিশন্ড রুমে বসে সফটওয়্যার তৈরি করে। এটা কোনো সিনেমা না — এটা বাস্তব, এটা আমার জীবন।

    এখন আমার পরিবারকে সাপোর্ট করতে পারি। বাবাকে বলতে পারি — 'বাবা, আপনি আর কষ্ট করবেন না।' মায়ের চোখে গর্বের পানি দেখি — সেটাই আমার সবচেয়ে বড় সফলতা।

    আগামী

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা — স্বপ্ন এখনো বাকি

    বাংলাদেশের এই ছোট্ট গ্রাম থেকে এমন কিছু বানানো যা সারা পৃথিবীর মানুষ ব্যবহার করবে — এটাই আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। একটা গ্লোবাল SaaS প্রোডাক্ট তৈরি করতে চাই যেটা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন সহজ করবে।

    পাশাপাশি বাংলাদেশের নতুন ডেভেলপারদের গাইড করতে চাই। একটা কমিউনিটি বানাতে চাই যেখানে আমার মতো গ্রামের ছেলেমেয়েরাও শিখতে পারবে, বড় হতে পারবে। কেউ যেন আমার মতো একা একা লড়াই না করে — সেটা নিশ্চিত করতে চাই।

    একটা ওপেন-সোর্স প্রজেক্ট শুরু করার পরিকল্পনা আছে যেটা বাংলাদেশি ডেভেলপারদের জন্য হবে। বাংলায় ডকুমেন্টেশন, বাংলায় টিউটোরিয়াল, বাংলায় সবকিছু। কেউ যেন ইংরেজি না পারার জন্য পিছিয়ে না থাকে।

    একদিন নিজের একটা টেক কোম্পানি খুলব। বাংলাদেশের গ্রামের ছেলেমেয়েদের হায়ার করব। দেখাতে চাই — তুমি কোথায় জন্মেছ সেটা গুরুত্বপূর্ণ না, তুমি কতটা চেষ্টা করো সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

    আমি বিশ্বাস করি — তুমি কোথায় জন্মেছ, তোমার কত টাকা আছে, তোমার বাবা কী করেন — এসব কিছুই আসে যায় না। যেটা আসে যায় সেটা হলো তোমার ভেতরের আগুন। সেই আগুন জ্বালিয়ে রাখো।

    যে কথাগুলো আমাকে চালিয়ে নিয়েছে

    "

    আজকের কষ্ট, আগামীকালের গল্প।

    "

    তোমার শুরুটা কোথায় সেটা গুরুত্বপূর্ণ না — তুমি কোথায় যেতে চাও সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

    "

    প্রতিটা 'না' তোমাকে একটা 'হ্যাঁ'-এর কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে।

    "

    প্রতিদিন ১% উন্নতি = এক বছরে ৩৭ গুণ উন্নতি।

    "

    সফলতা মানে পড়ে যাওয়ার পর উঠে দাঁড়ানো — বারবার।

    "

    তুমি যদি সবচেয়ে স্মার্ট ব্যক্তি হও ঘরে, তাহলে তুমি ভুল ঘরে আছ।

    "

    কঠিন সময় কঠিন মানুষ তৈরি করে।

    "

    তুমি ব্যর্থ হওনি — তুমি শিখেছ।

    "

    স্বপ্ন দেখতে টাকা লাগে না।

    "যদি আমি পারি — গ্রামের ছেলে, কিছুই ছিল না — তাহলে তুমিও পারবে। শুধু হাল ছেড়ো না।"

    — খায়রুল বাশার

    দক্ষতা

    যেকোনো প্ল্যাটফর্মে সফটওয়্যার তৈরি করি

    শুধু ওয়েব না — মোবাইল, ডেস্কটপ, AI — যেখানে সমস্যা, সেখানে সমাধান দিই।

    ওয়েব

    ফুল-স্ট্যাক ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন — React, Next.js, Node.js, TypeScript

    মোবাইল

    ক্রস-প্ল্যাটফর্ম মোবাইল অ্যাপ — React Native, Flutter, Expo

    ডেস্কটপ

    নেটিভ ডেস্কটপ সফটওয়্যার — Electron, Tauri, Python

    AI/ML

    ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম — Python, TensorFlow, OpenAI, LangChain

    টুলস ও টেকনোলজি

    JavaScriptTypeScriptPythonReactNext.jsNode.jsReact NativeFlutterElectronTailwindPostgreSQLMongoDBRedisDockerAWSGitGraphQLFirebase
    জীবনের শিক্ষা

    যা শিখেছি এই পথে

    বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষা — যা তোমারও কাজে লাগবে।

    শিক্ষা 01

    শুরু করাটাই সবচেয়ে কঠিন

    আমি যখন শুরু করেছিলাম, আমার কাছে কিছুই ছিল না। পুরনো কম্পিউটার, স্লো ইন্টারনেট। কিন্তু শুরু করেছিলাম — সেটাই যথেষ্ট ছিল।

    শিক্ষা 02

    ব্যর্থতা মানে শেষ না

    প্রথম ১০টা ফ্রিল্যান্স বিড রিজেক্ট হয়েছিল। ১১তম বিডে প্রথম কাজ পাই। প্রতিটা 'না' আমাকে একটু বেশি শক্ত করেছে।

    শিক্ষা 03

    প্রতিদিন একটু একটু — এটাই আসল

    রাতে অন্তত ২-৩ ঘণ্টা কোড করতাম, এমনকি ক্লান্ত থাকলেও। ছোট ছোট পদক্ষেপেই বড় যাত্রা সম্পন্ন হয়।

    শিক্ষা 04

    নিজের সাথে তুলনা করো, অন্যের সাথে না

    শুরুতে অন্যদের দেখে হতাশ হতাম। পরে বুঝলাম — গতকালের আমি আর আজকের আমি, এই তুলনাই সঠিক।

    শিক্ষা 05

    প্রশ্ন করতে লজ্জা নেই

    অনলাইনে শত শত প্রশ্ন করেছি, অনেকে হাসত। কিন্তু সেই প্রশ্নগুলোই আমাকে শিখিয়েছে।

    শিক্ষা 06

    বিশ্রামও দরকার

    একবার টানা কাজ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। তখন শিখলাম — বিশ্রাম নেওয়া দুর্বলতা না, এটা প্রয়োজন।

    শিক্ষা 07

    একা একা সব শেখা যায় না

    অনলাইন কমিউনিটি, ফোরাম, ডিসকর্ড — এগুলো আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। মানুষের সাথে যুক্ত থাকো।

    শিক্ষা 08

    টাকা আসবে — আগে শেখো

    শুরুতে টাকার পেছনে দৌড়ালে হতাশ হবে। আগে ভালো করে শেখো — টাকা এমনিই আসবে।

    রোডম্যাপ

    শূন্য থেকে ডেভেলপার — ধাপে ধাপে

    আমি যেভাবে শিখেছি, তুমিও সেভাবে শুরু করতে পারো। নিচের রোডম্যাপ ফলো করো।

    ০১

    HTML, CSS, JavaScript শেখো

    ৩-৬ মাস

    ওয়েবের ভিত্তি। এগুলো ছাড়া কিছুই সম্ভব না। freeCodeCamp আর YouTube দিয়ে শুরু করো।

    freeCodeCampMDN Web DocsJavaScript.info
    ০২

    একটা ফ্রেমওয়ার্ক শেখো (React)

    ২-৩ মাস

    React শেখো — সবচেয়ে বেশি চাহিদা, সবচেয়ে বেশি জব। ছোট ছোট প্রজেক্ট বানাতে শুরু করো।

    React DocsScrimbaYouTube Tutorials
    ০৩

    প্রজেক্ট বানাও — ৫টা অন্তত

    ২-৪ মাস

    To-do অ্যাপ, ওয়েদার অ্যাপ, ই-কমার্স — নিজের হাতে বানাও। পোর্টফোলিও তৈরি করো।

    Frontend MentorGitHubCodePen
    ০৪

    Backend শেখো (Node.js/Python)

    ২-৩ মাস

    ফুল-স্ট্যাক হতে হলে Backend লাগবে। API তৈরি করা শেখো, Database শেখো।

    Node.js DocsExpress.jsMongoDB/PostgreSQL
    ০৫

    ফ্রিল্যান্সিং শুরু করো

    চলমান

    Upwork, Fiverr-এ প্রোফাইল বানাও। প্রথম কাজ পেতে সময় লাগবে — ধৈর্য ধরো। আমারও ১০টা বিড রিজেক্ট হয়েছিল।

    UpworkFiverrLinkedIn
    নতুনদের জন্য

    তোমাদের জন্য কিছু কথা

    যারা এই পথে আসতে চাও — আমার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু পরামর্শ।

    01

    আজই শুরু করো

    পারফেক্ট টাইম বলে কিছু নেই — তোমার কাছে যা আছে তা দিয়েই শুরু করো। আমি ৪,৬০০ টাকার কম্পিউটার দিয়ে শুরু করেছিলাম।

    02

    প্রজেক্ট বানাও

    শুধু টিউটোরিয়াল দেখো না — নিজে প্রজেক্ট বানাও। ভুল করবে, সেটাই সেরা শেখা। আমার প্রথম ওয়েবসাইট খুবই বাজে ছিল — কিন্তু সেটা বানিয়েছিলাম!

    03

    প্রতিদিন শেখো

    প্রতিদিন ছোট হলেও নতুন কিছু শেখো। ১% better প্রতিদিন = এক বছরে ৩৭ গুণ। এটা গণিত, বিশ্বাস না — ফ্যাক্ট।

    04

    কমিউনিটিতে যোগ দাও

    একা শিখতে কষ্ট হয় — কমিউনিটিতে যোগ দাও, প্রশ্ন করো, সাহায্য নাও। আমি একা ছিলাম — তোমাকে একা থাকতে হবে না।

    05

    ধৈর্য ধরো

    কঠিন লাগবে, বুঝতে পারবে না — এটাই স্বাভাবিক। আমার JavaScript শিখতে ৬ মাস লেগেছিল। ধৈর্য ধরো, হাল ছেড়ো না।

    06

    ইংরেজি শেখো

    প্রোগ্রামিং এর বেশিরভাগ রিসোর্স ইংরেজিতে। ইংরেজি শিখলে তোমার জন্য দরজা খুলে যাবে। আমি ইউটিউব ভিডিও দেখে ইংরেজি শিখেছি।

    07

    GitHub ব্যবহার করো

    তোমার সব কোড GitHub-এ রাখো। এটা তোমার পোর্টফোলিও। ক্লায়েন্টরা দেখবে, এমপ্লয়াররা দেখবে। শুরু থেকেই অভ্যাস করো।

    08

    হাল ছেড়ো না

    আমি যদি পারি — গ্রামের ছেলে, কিছু ছিল না — তাহলে তুমিও পারবে। শুধু থামো না, চলতে থাকো।

    যোগাযোগ

    কথা বলতে চান?

    নতুন প্রজেক্ট, কোলাবোরেশন, মেন্টরশিপ বা শুধু হ্যালো বলতে — আমি সবসময় খোলা আছি।

    ঢাকা, বাংলাদেশ

    © 2026 খায়রুল বাশার। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

    দিয়ে বাংলাদেশ থেকে তৈরি